আমার জন্ম হয়েছিল চাঁদপুর জেলার মতলব থানার ছোটদূর্গাপুর গ্রামে।আমি যখন ৩য় শ্রেণীতে পড়ি তখন ঢাকা চলে এসেছিলাম।আমার যতটুকু মনে পড়ে আমি যা কিছু বুঝেছি তা এই শহরে এসেই বুঝেছি।ঢাকা আসার পরে মাএ ২বার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। এই ২বারে আমার মাএ (৩+২২) ২৫ দিন থাকা পড়েছে।কিন্তু কি যেন এক আজব টানে আমার এইবার আর আসতে মনে চাইতেছিল না।ঢাকার অনেক বন্ধু ফোন দিয়ে গালি দিচ্ছিলো যে চাঁদপুর গিয়ে আমাদের কি ভুলে গিয়েছিস?আজব ব্যাপার হলেও সত্যি যে আমি তখন ঢাকার কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে গিয়েছিলাম।শত হলেও নিজ গ্রামের মাটি,হয়তোবা বড় হয়েছি শহরে কিন্তু গ্রামের মাটির গন্ধ এখনো ভুলা যাচ্ছে না।তাছাড়া কিছু আজব বন্ধু জুটেছিল যাদের কথা আমি কখনো ভুলবো না।আমার এই কথাগুলোর মানে একটাই,মানুষ কিভাবে নিজের দেশ এর নামে এত কিছু উল্টা পাল্টা বলে?আর কিভাবেই বা নিজের দেশকে ভুলে চিরদিনের জন্যে বিদেশ চলে যায়? যেখানে আমি মাএ কিছুদিন গ্রামে গিয়ে এখন প্রতিদিনই চলে যেতে ইচ্ছে হয়।
অতিদ্রুত দেখা হবে চাঁদপুরবাসি।mehedi hassan fahad
Thursday, 15 October 2020
Friday, 9 October 2020
Tuesday, 29 September 2020
রেপিস্ট এবং ছাত্রলীগের সম্পর্কে কিছু কথা
Accalamualaikum…পৃথিবীর
সব দেশেই খারাপ মানুষ আছে,কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ এ রেপ নিয়ে যা শুরু হইছে তা আর
আমার বলতে হবে না।পেপারে রেপ,ফেসবুক এ রেপ সব জায়গায় শুধু রেপ এর খবর।যারা রেপ করছে
তারা সবাই পুরুষ মানুশ।বাংলাদেশ এ কোটি কোটি পুরুষ মানুষ আছে,শুধু এই কয়েকজন নামে মাএ
পুরুষ এর জন্য তো আর সবাইকে দোষ দেওয়া যায় না তাই না?তেমনি যারা ছাএলীগ করে তারা সবাই
ই রেপ করে বেড়ায় না,তাহলে কেনো সবাইকে এর দোষ দেওয়া হবে?২০১৮ সালে যখন আন্দোলন হইছিল
তখন কি ছাত্রদের মাঝে কোনো ছাত্রলীগ ছিল না?একজনও কী ছিল না?আচ্ছা কেও না থাকুক আমি
তো ছিলাম,তবে কেনো ছাত্রলীগ করি দেখে মানুষ সব জায়গায় মেনশন দিবে?আমার মুসলিম ভাই বলি
কয়েকজন ভন্ড হাফেজ/মাওলানা কিছু দিন আগে রেপ করেছিল,তাই বলে কি সব হাফেজ/মাওলানা খারাপ?না,সবাই
খারাপ না। যারা পাপ করে তাদের শাস্তি দেন না,না করছে কে?শুধু শুধু সবাইকে দোষারপ করেন
কেনো?আমরা তো চাই না যে আমাদের মা বোনদের সাথে কেও এইরকম করুক।কারণ আমরাও চাই রেপিস্টদের
বিচার হোক। আর যত গুলো রেপ হইছে সব তো ছাত্রলীগ করে নাই,আপনার মতো সাধারণ ছাত্র অথবা
কর্মজীবীও আছে।তাহলে সব ছাত্রলীগ নেতা- কর্মীর দিকে যেমন আঙ্গুল তুলছেন আপনার দিকেও
তো তোলা দরকার।মহানবী (সা:) এর আগের সময়ও কোনো একজন ব্যক্তি কিছু করলে তার পুরো গোএ
এর উপরে দোষ ফেলত সবাই, বর্তমানেও ঠিক একই জিনিস শুরু হইছে।
দয়াকরে যার দোষ
আছে তাকেই বলুন,সবাইকে না।
Friday, 14 August 2020
যুদ্ধের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পর্যন্ত দেশ এর পরিস্থিতি
শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন :-"এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।"
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা:
১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও অস্থায়ী সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই হিংস্রতা ও তীব্র রক্তপাতে রূপ নেয়। রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করে। বাঙালি ও অবাঙালি হিন্দুদেরকে লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযানের কারণে সারা বছরজুড়ে প্রচুর হিন্দু জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় গ্রহণ করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ও পুলিশ রেজিমেণ্টে কর্মরত পূর্ব বাংলার সদস্যবৃন্দ দ্রুত বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং লীগ সদস্যবৃন্দ কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব প্রবাসে বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব বড় রকমের বিদ্রোহ সংঘটিত হতে থাকে। আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সরকার মুজিবকে ছেড়ে দিতে এবং তার সাথে সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি জানায়।
যুদ্ধবর্তী সময়ে মুজিবের পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। তার সন্তান শেখ কামাল মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান বাহিনীর ভিতরে সংঘটিত যুদ্ধটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সরকারের অংশগ্রহণের পর, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং লীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় ফিরে সরকার গঠন করেন। ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর জুলফিকার আলী ভুট্টো মুজিবকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি দেন। এরপর তিনি লন্ডন হয়ে নতুন দিল্লিতে ফিরে আসেন এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী’র সাথে সাক্ষাতের পর জনসমক্ষে “ভারতের জনগণ, আমার জনগণের শ্রেষ্ঠ বন্ধু” বলে তাকে সাধুবাদ জানান। তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে এসে তিনি সেদিন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন।
নীতি:-
অর্থনৈতিক নীতি:মুজিব সরকার গুরুতর সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে ছিল, ১৯৭১ সালে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি। ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তখনো কাটেনি, এবং যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক অবস্থাও চরমভাবে ভেঙে পড়েছিলঅর্থনৈতিকভাবে, মুজিব একটি বিস্তৃত পরিসরের জাতীয়করণ কার্যক্রম হাতে নেন। বছর শেষ হতেই, হাজার হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে চলে আসে, হাজার হাজার অবাঙালি পাকিস্তানে অভিবাসিত হয়, এবং এরপরও হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রয়ে যায়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন করার জন্য বৃহৎ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে এবং দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। ১৯৭৩ সালে কৃষি, নগর অবকাঠামো ও কুটিরশিল্পের উপর রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ-বছরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তারপরও ১৯৭৪ সালে চালের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। উক্ত দুর্ভিক্ষের সময় রংপুর জেলায় খাদ্যাভাব ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের অব্যবস্থাপনাকে সেসময় এর জন্য দোষারোপ করা হয়।মুজিবের শাসনামলে দেশবাসী শিল্পের অবনতি, বাংলাদেশি শিল্পের উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ এবং জাল টাকা কেলেঙ্কারি প্রত্যক্ষ করে।
বৈদেশিক নীতি:
বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের পর শেখ মুজিব পাকিস্তানের স্বীকৃতি এবং ওআইসি, জাতিসংঘ ও জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের জন্য মানবীয় ও উন্নয়নকল্পের জন্য সহযোগিতা চান।তিনি ভারতের সাথে একটি ২৫ বছর মেয়াদী মিত্রতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন যাতে অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুজিব ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।মুজিবের জীবদ্দশায় দুই সরকারের মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা ছিল।
সংবিধান প্রণয়ন:
১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটান। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কুটির শিল্প উন্নয়নে প্রাগ্রাধিকারমূলক সরকারি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দেয়া হয়।
বামপন্থী বিদ্রোহ:
বিজয়ের অব্যবহিত পর শেখ মুজিবের ক্ষমতালাভের পরপরই, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-এর সশস্ত্র বিভাগ গণবাহিনী কর্তৃক সংগঠিত বামপন্থী বিদ্রোহীরা মার্ক্সবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
এর প্রতিউত্তরে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাহিনী ও ভূতপূর্ব ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় মিলিশিয়া গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ও একটি জাতীয় মিলিশিয়া বোর্ডও গঠন করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ২৪ জানুয়ারি তারিখে এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার একটি আদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠনের সরকারি আদেশ জারি করা হয়। গোড়ার দিকে রক্ষীবাহিনী বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অনেক অস্ত্রশস্ত্র, চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার করে এবং মজুতদার ও কালোবাজারীদের কার্যকলাপ কিছুটা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু খুব শীঘ্রই বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হতে থাকে, এর কারণ রক্ষিবাহিনীর সদস্যগণ রাজনৈতিক হত্যাকান্ডগুম, গোলাগুলি, এবং ধর্ষণের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের যথেচ্ছাচার নিয়ন্ত্রণ বা তাদের কার্যকলাপের জবাবদিহিতার আইনগত কোন ব্যবস্থা ছিল না। অপরাধ স্বীকার করানোর জন্য গ্রেফতারকৃত লোকদের প্রতি অত্যাচার, লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়। ১৯৭৩ সালের ১৮ অক্টোবর সরকার জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-১৯৭৩ জারি করে রক্ষীবাহিনীর সকল কার্যকলাপ আইনসঙ্গত বলে ঘোষণা করে। বাহিনীটির কাঠামোগত দুর্বলতার জন্য এবং জনগণের দৃষ্টিতে এর ভাবমূর্তি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকলে অনেক রক্ষী বাহিনী ছেড়ে পালিয়ে যায়, ফলে বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার মূল আদেশে আরেকটি সংশোধনী (জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ১৯৭৫) জারি করে। এর মাধ্যমে বহুসংখ্যক গুরু ও লঘু অপরাধের উল্লেখ করা হয়, যার জন্য অফিসার ও রক্ষীদের বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালতে বিচার করা যাবে।
বাকশাল:
স্বাধীনতা পর অচিরেই মুজিবের সরকারকে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ সামাল দিতে হয়। আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ করায় গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ খাদ্য সংকট আরো বাড়িয়ে দেয় এবং অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব, দ্রব্যমূল্যের অসামঞ্জস্যতা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে মুজিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় মুজিবও তার ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর মুজিব জরুরি অবস্থা জারি করেন।১৯৭৫ এ কয়েকটি দল মিলে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দল গঠন করে যা সংক্ষেপে বাকশাল নামে পরিচিত। এই নতুন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট সরাসরি নির্বাচিত হবে, একটি নির্বাচিত সংসদ আইন পাস করতে পারে। মুজিব নিজেকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।বাকশাল বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৪টি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়। দলটি প্রত্যন্ত জনসাধারণ, কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের বিবেচিত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। দলটি বৃহৎ সমাজতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে। সরকারি বাহিনীর সাথে সমর্থকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় রক্ষী বাহিনীর সহায়তায় মুজিব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করেন এবং সারাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। রক্ষী বাহিনী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন এবং তার কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারবিরোধী বলে গণ্য করেন। মুজিবের বিরোধীরা অসন্তোষ ও সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, তার এই নীতির ফলে অস্থিতিশীল অবস্থা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দুর্নীতি, কালোবাজারী এবং অবৈধ মজুদদারি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ড:--
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে একদল সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে রাষ্ট্রপতির ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে। কেবল তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সামরিক কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুজিবের প্রাক্তন সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হন।
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ তারিখে মুজিব হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান ও পাকিস্তানপন্থী প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে তার বৈধতা দেয়া হয়। যা ১২ অগাস্ট ১৯৯৬ তারিখে সংসদে রহিত করা হয়। সংবাদ মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-কে দায়ী করা হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ইউজিন দিয়ে লরেন্স লিফসুল্জ সিআইএ-কে সামরিক অভ্যুত্থান ও গণহত্যার জন্য দোষারোপ করেন। তার মরদেহ তার জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সামরিক তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। অন্যান্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তথ্যসূএঃইন্টারনেট
Monday, 10 August 2020
বৈরুত বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২০, তৃতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১১০ জন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ অভিবাসী শ্রমিক।
বিবিসি জানায়, বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের জেরে দেশটির বিচারমন্ত্রী মারি ক্লদ নাজম সোমবার পদত্যাগ করেছেন। এই নিয়ে দেশটির নয় জন এমপি ও মন্ত্রিসভার তিন সদস্য পদত্যাগ করলেন। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের ডাকা মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে অর্থমন্ত্রী গাজী ওয়াজনীও পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসছে গোটা শহর। রোববার, শহরটিতে দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানান, ছয় বছর ধরে বৈরুত বন্দরে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কোনোভাবে প্রজ্জ্বলিত হয়ে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটেছে।
শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে গুদামে এত বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক উপাদান রেখে দেওয়ার ঘটনায় সরকারের অবহেলাকে দায়ী করে বিক্ষুব্ধ লেবাননবাসী।
এদিকে, জীবিত আর কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় বন্দরে তল্লাশি অভিযানের উদ্ধার পর্ব বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী।
বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শহরটির লাখ লাখ বাসিন্দা । শহরটির অধিকাংশ ভবনেরই জানালা-দরজা উড়ে গেছে।
কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বিস্ফোরণের কারণে দেশটির প্রায় ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেবাননের মোট আর্থিক ক্ষতি এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
[COPY POST]
Thursday, 6 August 2020
দোষ
দোষ
আমরা সকলেই দোষ
খুঁজি।অন্যের দোষ খুঁজি। কিন্তু আসলে চিন্তা করে দেখেছেন কী সবকিছুতে দোষ কার? দোষ
আসলে আমার,আপনার,সবার। একটু চিন্তা করে দেখুন তো যে অপরাধ করছে দোষ কি শুধু সেই অপরাধীর?
নাকি সাধারণ জনগণেরও? আসলে সন্ত্রাসবাদ বলেন সকল দোষই জনগনের।
শহরের ড্রেন ব্যবস্থার
ঝামেলা থেকে শুরু করে বর্তমানের কিশোর অপরাধারীর কথাই বলেন সব কিছুর মধ্যেই আমরা সরকার
এর দোষ খুঁজি। আসলে দোষ যে সরকারের নেই তা নয়।(আমি এখানে সরকার বলতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত
সবাইকে বুঝাচ্ছি)। তারপরেও সরকারের থেকে বেশী সাধারণ মানুষেরই দোষ বেশী। বাংলাদেশ একটি
গনতান্ত্রিক দেশ। এখানে জনগণের মূল্যই সবথেকে বেশি।জনগনের ভোটেই সরকার নির্বাচিত হয়।এখন
নির্বাচনের সময় কোথাও কোনো ধরনের ভোট চুরি হলে আমরা যদি সবাই মিলে যাই তাহলে তো আর
সেই চুরিটা হয় না। এখন কথা হচ্ছে আমরা তো সেখানে যাব না,কার কী আসে যায়?আমরা শুধু বলে
দিব উটকো ঝামেলায় জড়িয়ে কোনো লাভ নেই।কিন্তু পরে বলব সরকারের দোষ।
একটা কথা আমরা
কেউই চিন্তা করি না প্রভাবশালী লোক দেশের বিশ কোটি মধ্যে কয়েক কোটি হতে পারে,আর বাকী
সবাই সাধারণ জনগণ।ভুল করেও যদি কেও কোনদিন এই সম্পর্কে কিছু বলে তাহলে সবাই মিলে তাকে
থামিয়ে দেই।
এখন আসি সন্ত্রাসবাদ
এবং কিশোর অপরাধীদের কথায়। একটি সমাজে যেমন খারাপ মানুষ আছে,তেমনি কিছু ভালো মানুষও
আছে।এই সমাজের প্রভাবশালীদের ছায়ায় ধীরে ধীরে কিছু অপরাধী গড়ে ওঠে। এই সকল অপরাধীর
অপরাধ করার জন্য দরকার হয় সাধারণ মানুষ এর ভয়।একটি জিনিস আমরা লক্ষ্য করলেই দেখব একজন
সন্ত্রাসী ততদিনই অপরাধ করে যতদিন না নতুন কোনো অপরাধী পুরান অপরাধীর থেকেও বড় কোনো
অপরাধ করে সেই অপরাধীর সম্পর্কে আমাদের মনে নতুন কোনো ভয় না জন্ম দেয়। আমরা যত বেশী
ভয় পাব তাতে তাদের তত বেশী লাভ। আমরা সাধারণ জনগণ চাইলেই একসাথে হয়ে তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না।উল্টো কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা
বলে তাহলে বেয়াদব বলে চালিয়ে দেয়। এই কারনেও অনেকে কথা বলে না।
এখন আসি বর্তমানের
শহরের পানির ড্রেন এর অবস্থায়। শহরের জলাবদ্ধতার পেছনেও আমরা অনেকটা দায়ী।আমরা যেখানে
সেখানে প্নাস্টিক,পলিথিন ইত্যাদি ফেলে দেই,যা পরে ড্রেনে পরে। আমরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে
যাওয়ার সময় প্যাকেট জাতীয় দ্রব্য রাস্তায় ফেলে দিই। আসলে তা কখনোই উচিত না।
শেষ কথা অপরের দোষ না খুঁজে আমাদের নিজের দোষ খুঁজা উচিত।আর
প্রত্যেকটি অপরাধেই আমাদের রুখে দাঁড়ানো উচিত।
দেশের মাটি
আমার জন্ম হয়েছিল চাঁদপুর জেলার মতলব থানার ছোটদূর্গাপুর গ্রামে।আমি যখন ৩য় শ্রেণীতে পড়ি তখন ঢাকা চলে এসেছিলাম।আমার যতটুকু মনে পড়ে আমি যা কিছ...
-
Accalamualaikum…পৃথিবীর সব দেশেই খারাপ মানুষ আছে,কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ এ রেপ নিয়ে যা শুরু হইছে তা আর আমার বলতে হবে না।পেপারে রেপ,ফেসব...
-
শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন :- "এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা ...







